ক্ষতিপূরক দীর্ঘীভবন‌ কাকে বলে

 ক্ষতিপূরক দীর্ঘীভবন‌

সাধারণত সমীভবনের ফলে যুক্ত ব্যঞ্জন থেকে সৃষ্ট যুগ্ম ব্যঞ্জনের মধ্যে একটি ব্যঞ্জনধ্বনি লুপ্ত হ‌ওয়ার ফলে তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে পূর্ববর্তী হ্রস্ব স্বরটি যদি দীর্ঘ স্বরে পরিণত হয়, তাহলে তাকে বলে ক্ষতিপূরক দীর্ঘীভবন‌। 

উদাহরণ দিয়ে বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। চলুন কয়েকটি উদাহরণ বিশ্লেষণ করে দেখি।

ক্ষতিপূরক দীর্ঘীভবনের উদাহরণ

ভক্ত > ভত্ত > ভাত, অষ্ট > অট্ট > আট, ছত্র > ছত্ত > ছাত, প্রস্তর > পত্থর > পাথর।

উপরের উদাহরণগুলির মধ্যে একটিকে বিশ্লেষণ করে দেখাই। ভক্ত থেকে সমীভবনের ফলে ভত্ত হয়েছে। ভত্ত থেকে হয়েছে ভাত। (ভ্+অ+ত্+ত্+অ > ভ্+আ+ত্+অ)। দেখুন 'ভত্ত' শব্দে দুটি ত্ আছে, তাদের মধ্যে 'ভাত' শব্দে একটি লোপ পেয়েছে এবং ভ্-এর পরবর্তী অ স্বরটি আ স্বরে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ ত্ লোপ পেয়ে যে ক্ষতি হলো পূর্ববর্তী হ্রস্ব স্বর অ থেকে দীর্ঘ স্বর আ-তে পরিণত হয়ে সেই ক্ষতি পূরণ করেছে। নাসিক্যীভবনেও এই ক্ষতিপূরক দীর্ঘীভবন‌ ঘটে। যেমন: চন্দ্র > চন্দ > চাঁদ। এখানেও দেখুন ন্ লোপ পেয়েছে এবং চ্-এর পরবর্তী অ স্বরটি আ স্বরে পরিণত হয়েছে।

আর‌ও পড়ুন

মন্তব্যসমূহ

আর‌ও পড়ে দেখুন

বাংলা ভাষাকে এস ও ভি ভাষা বলে কেন | Why Bengali is an SOV language

মিল যুক্ত শব্দ | মিল করে শব্দ লেখ

সূচিপত্র | Bengali Grammar

কৃৎ প্রত্যয়ের বিস্তারিত আলোচনা | প্রকৃতি প্রত্যয়

তৎসম শব্দ কাকে বলে | তৎসম শব্দের তালিকা

ব্যঞ্জনধ্বনির বর্গীকরণ | উচ্চারণ স্থান অনুসারে ব্যঞ্জনের শ্রেণিবিভাগ

সাধু ও চলিত ভাষার ৭টি বৈশিষ্ট্য ও রূপান্তর | Sadhu o cholit bhasha

অভিশ্রুতি কাকে বলে?